অসহায় পরিবারের পাশে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক - চরম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ

লোহাগাড়া উপজেলা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।

সর্বশেষ

Tuesday, December 4, 2018

অসহায় পরিবারের পাশে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কক্সবাজারের চকোরিয়ার একটি অসহায় পরিবারের কথা জানতে পেরে পরিবারটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। অবশ্য কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দুই বছর আগে থেকেই সেই পরিবারটিকে সাহায্য করে আসছেন তিনি।
জানা যায়, দুরারোগ্য ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে সাড়ে তিন বছর আগে মারা যান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বামী শেখ কামাল আজাদ টিপু। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের পড়ালেখা তো দূরে থাক, দুই বেলা দু-মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করাই ছিল একেবারেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার রোজিনা আক্তারের। এর ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অসহযোগিতা এবং ঝগড়া-বিবাদে দুর্বিষহ হয়ে উঠে তাঁর জীবন। উপায়ান্তর না দেখে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে রোজিনা চলে যান বাপের বাড়ি। সেখানে অন্তত খাবারের সংস্থান হলেও পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় দুই সন্তানের।
এ অবস্থায় বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তাঁর প্রতিমাসে পাঠানো নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকায় চলছে দুই সন্তানের পড়ালেখা। ছাত্রনেতা রাব্বানী সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হওয়ার প্রায় দেড় বছর আগে থেকে এ সহায়তা দিচ্ছেন রোজিনা আক্তারকে। যাতে রোজিনার সংসারে থাকা দুই সন্তানের পড়ালেখা কোনো অবস্থাতে বন্ধ হয়ে না যায়। রোজিনার প্রথম সন্তান আইনান সিদ্দিকী কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে এবং একমাত্র পুত্র সন্তান মুনতাজার সিদ্দিকী ৩য় শ্রেণিতে পড়ছে শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার শিশুবাগ শিক্ষা নিকেতনে।
ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শেখ কামাল আজাদ টিপুর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মেনিবাজার এলাকায়। তিনি চাকরি করতেন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) আইএসডিই নামের প্রতিষ্ঠানে। সেখানে চাকরিরত অবস্থায় বিয়ে করেন কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প সিকদার পাড়ার মৃত দিলু মিয়া সিকদারের কন্যা রোজিনা আক্তারকে। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান আইনান সিদ্দিকী ও পুত্রসন্তান মুনতাজার সিদ্দিকী। কিন্তু পুত্রসন্তান জন্ম নেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৫ সালের ৪ মার্চ দুরারোগ্য ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান শেখ কামাল আজাদ টিপু। এর পর থেকে আকাশ ভেঙে পড়ে রোজিনার মাথার ওপর। তখন থেকেই ঘোর অমানিশা দেখা দেয় রোজিনার সংসারে। একদিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অসহযোগিতা এবং ঝগড়া-বিবাদ, অপরদিকে সন্তানদের খাবার জোগাড় করাসহ তাদের পড়ালেখার ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে যায়। এই অবস্থায় দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান রোজিনা আক্তার। এরই মধ্যে রোজিনার এক শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পাশে দাঁড়ান। এতে প্রায় দুই বছর ধরে রাব্বানীর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে পড়ালেখা চলছে দুই সন্তানের।
ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শেখ কামাল আজাদ টিপুর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী যখন ক্যান্সার আক্রান্ত হন তখন সহায়-সম্বল যা ছিল সবকিছুই চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। এর পরও স্বামীকে বাঁচাতে না পারায় আমার মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। কীভাবে দুই শিশুসন্তানের মুখে দু-মুঠো ভাত দেব, তাদের পড়ালেখা করাবো সেই দুশ্চিন্তা ভর করে আমাকে। এই অবস্থায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অসহযোগিতা এবং প্রতিনিয়ত ঝগড়-বিবাদে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে আমার জীবন। ঠিকমতো খাবারও জুটছিল না আমাদের। একপর্যায়ে স্বামীর ভিটে-বাড়ি ছেড়ে চলে যাই বাপের বাড়িতে। সেখানে আমাদের খাবারের ব্যবস্থা হলেও বন্ধ হয়ে যায় দুই শিশুসন্তানের পড়ালেখা।’
রোজিনা আক্তার আরো বলেন, ‘এই অবস্থায় চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রকৌশলী নাছরুল কবির কায়েম নিহাদের মাধ্যমে গত দুইবছর আগে বিষয়টি জানতে পারেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এর পর থেকেই গোলাম রাব্বানীর দেওয়া নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তায় পড়ালেখা চলছে আমার দুই শিশুসন্তানের।’
রোজিনা আক্তার জানান, গোলাম রাব্বানীর আর্থিক সহায়তায় তাঁর বড় সন্তান আইনান সিদ্দিকী পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে। একইভাবে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলও করেছে। বর্তমানে আইনান সিদ্দিকী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর একমাত্র পুত্রসন্তান পড়ছে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার শিশুবাগ শিক্ষা নিকেতনে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এটা আমাদের একটা মানবিক দায়িত্ব। বিভিন্ন অসহায়, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ এরাই হয়তো একদিন বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে আবির্ভূত হবে। তারাও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন হবে এবং এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তারাও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।’
গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ছাত্রলীগ হচ্ছে সকল ধরনের ইতিবাচক কাজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর। তাই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি বলব এটিই প্রত্যেক ছাত্রলীগ কর্মীর মূল থিম হওয়া উচিত। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে দেশরত্ন শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ হচ্ছে ইতিবাচক এবং মানবতাবাদী কাজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর এবং পথ প্রদর্শক।’

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here