বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শ পাওয়া প্রবীনদের থেকে দীক্ষা নিতে চায় ছাত্রলীগ - চরম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ

লোহাগাড়া উপজেলা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।

সর্বশেষ

Sunday, December 2, 2018

বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শ পাওয়া প্রবীনদের থেকে দীক্ষা নিতে চায় ছাত্রলীগ


বঙ্গবন্ধুকে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই দেখেন নি। যারা বর্তমানে ছাত্রলীগ করেন তাদের তো দেখার প্রশ্নই উঠেনা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যারা কাছ থেকে দেখেছে, তার সরাসরি সংস্পর্শ পেয়েছেন এমন প্রবীন আওয়ামীলীগারদের কাছ থেকে দীক্ষা নিতে চান ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ উপলক্ষে তারা ফরিদপুরের মাচ্চর ইউনিয়নে প্রায় ২০ জন বর্ষীয়ান প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে একত্রিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সহসভাপতি শেখ স্বাধীন মোঃ শাহেদ।  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবীন নেতাকর্মী এবং তাদের অনুগতদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মাচ্চর ইউনিয়নকে প্রায় ২৫ বছর নেতৃত্ব দেয়া জাহিদ হোসেনের বাড়িতে এ আয়োজন করা হয়। জাহিদ হোসেন গন অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০০৬ এর অক্টোবরে মতিঝিল অবরোধে ছিলেন সবার আগে। ১৯৭৫ সালের পর মাচ্চর ইউনিয়ন তথা ফরিদপুরে যে কজন হতভাগা আওয়ামীলীগ ছিলেন তিনি তাদের একজন।আই এ (intermediate) পাশ করার পরই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং সরকার পতন হয়। সে সময় আই এ পাশ করা মানে বিশাল কিছু ছিল। ভুরি ভুরি চাকরির অফার আসে। কিন্তু যে সরকার প্রিয় নেতা কে হত্যা করেছেন তার কাছে বেতন নিবেন না, তার আনুগত্য মানবেন না এই প্রত্যয়ে চাকরিই করেন নি।
৭৫ পরবর্তী সময়ে শুধু মাত্র তার বাড়িতেই ১৫ আগস্ট পালন করা হত। উপস্থিতদের মধ্যে রুস্তম মোল্লাকে তার বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা দেখে সবাই বলত রুস্তম পাগলা। আমির আলী সেই ব্যক্তি যিনি বঙ্গবন্ধু শহীদ হবার পর করুন সুরে জারি শোনার জন্য নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে জারি গান শিখিয়েছিলেন। রোজ শুনতেন আর কাদতেন। মুন্নু মোল্লা যৌবনে নৌকার জন্য এক জেলার সীমা থেকে অন্য জেলায় চলে যেতেন। মজিবর মোল্লা সেই লোক যে নৌকার প্রার্থীর জন্য নিজের বাড়ির ভিটা বন্ধুক রেখেছিলেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নজর আলী,হালিম শেখ,ইয়াকুব আলী,ছবেদ সেক,মহিউদ্দিন ফকির,জৈনন্দিন মন্ডল সহ আরো ২০-২৫ জন প্রবীন নৌকা প্রেমিক যারা প্রত্যেকেই বঙ্গবন্ধুকে চাক্ষুষ করেছেন এবং সবার বয়সই ৮০ উর্ধব। 
এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, “এই সকল প্রবীন নেতাকর্মী যে ভালবাসা দিলে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়, তিন প্রজন্মের ভোট। অর্থাৎ এরা কিন্তু সকলেই এখন দাদা-পর দাদা। ফলে এদের আগলে রাখলে তাদের ছেলেমেয়ে, নাতী -নাতনী ক্ষেত্র বিশেষ সন্তানদের নাতি নাতনী পর্যন্ত ভোট পাওয়া যাবে। ছাত্রলীগ সবার আগে নৌকাকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমে পড়েছে।”
ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা গভীর মনোযোগে প্রবীন এই নেতাদের অতীত স্মৃতিকথা শ্রবন করেন এবং সেখান থেকে আগামী দিনে তারা কিভাবে নিজদের প্রস্তুত করবেন সে দীক্ষা নেন। অনুষ্ঠানে প্রবীনদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেয়া হয়,পাশাপাশি তাদের কোন চাওয়া থাকলে তা পূরন করার ও প্রতিশ্রুতি দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here